মাতৃস্বাস্থ্য/নিরাপদ মাতৃত্ব

নিরাপদ মাতৃত্ব

নিরাপদ মাতৃত্ব হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ/অবস্থা সৃষ্টি করা যাতে একজন নারী তাঁর নিজ সিদ্ধান্তে গর্ভবতী হওয়ার পর গর্ভ ও প্রসব সংক্রান্ত জটিলতা ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল সেবা নিশ্চিতভাবে পেতে পারেন। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে হলে নিম্নলিখিত সেবাগুলো প্রাপ্তির প্রতি বিশেষ জোর দিতে হবে-

নিরাপদ মাতৃত্বে বাঁধাসমূহ

সামগ্রিকভাবে উন্নয়ণশীল দেশসমূহের পল্লী অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ অবহেলিত, দরিদ্র ও অশিক্ষিত মায়েদের গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের সময়ে মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্য সেবা পরিস্থিতিও ভিন্নতর নয়। যে সকল কারণ মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার প্রধান অন্তরায় সেগুলো হলোঃ

·      গর্ভাবস্থায় বিপজ্জনক লক্ষণ সম্পর্কে জ্ঞান বা ধারণার অজ্ঞতা সেবা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে দেরী
·      গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার সুফল সম্পর্কে শিক্ষার অভাব

·      সেবা গ্রহণে অনাগ্রহ

·      সেবা কেন্দ্রের দূরত্ব চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে দেরী
·      যানবাহনের অসুবিধা
·      আর্থিক খরচ
·      সঙ্গে যাওয়ার লোকের অভাব
·      প্রেরিত রোগীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে না দেখা সঠিক চিকিৎসা পেতে দেরী
·      সেবা প্রদানকারীর অভাব
·      সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতার অভাব
·      অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম/সামগ্রী

 মাতৃমৃত্যু

মাতৃমৃত্যু হচ্ছে গর্ভধারণ থেকে শুরু করে প্রসব পরবর্তী ৪২ দিনের মধ্যে একজন মায়ের মৃত্যু। তবে এ সময় দুর্ঘটনাজনিত কোন কারণে মায়ের মৃত্যু হলে তাকে মাতৃমৃত্যু ধরা হয় না।

মাতৃমৃত্যুর কারণ

গর্ভকালীন সেবা(ANC)

সমগ্র গর্ভকালীন সময়ে অর্থাৎ ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে প্রসবের পূর্ব পর্যন্ত গর্ভবতী মা এবং তার পেটের সন্তানের যত্ন নেওয়াকে গর্ভকালীন যত্ন বলা হয়। গর্ভকালে মায়ের সঠিক যত্ন নিলে মা সুস্থ থাকেন, সুস্থ-সবল শিশুর জন্ম হয়, নবজাতক ও মায়ের মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস পায়।

গর্ভকালীন সময়ে করণীয়

প্রথম সাক্ষাতঃ ৪ মাসের (১৬ সপ্তাহ) মধ্যে
দ্বিতীয় সাক্ষাতঃ ৬-৭ মাসের মধ্যে (২৪-২৮ সপ্তাহ)
তৃতীয় সাক্ষাতঃ ৮ম মাসে (৩২ সপ্তাহ)
চতুর্থ সাক্ষাতঃ ৯ম মাসে (৩৬ সপ্তাহ)

বিঃদ্রঃ গর্ভকালীন সময়ে ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ গ্রহণ করা যাবে না, দীর্ঘ সময় ক্লান্তিকর ভ্রমণ ও ধূমপান করা এবং ছোঁয়াচে রোগীর (হাম, বসন্ত ইত্যাদিতে আক্রান্ত) সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভ

গর্ভবতী হওয়ার আগেই অনেকসময় ঝুঁকিপূর্ণ মা সনাক্ত করা যায়। এতে অভিভাবকগণ তাদের করণীয় সম্বন্ধে সচেতন হবেন। এর ফলে মাতৃ-মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমানো যায়।

নিরাপদ প্রসব পরিকল্পনা (Safe Delivery)

গর্ভাবস্থায় কোনো জটিলতা দেখা দিলে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় সে জন্য প্রত্যেক পরিবারেরই উচিত নিরাপদ প্রসব পরিকল্পনা করা যেমনঃ

গর্ভকালীন বিপদচিহ্নসমূহ

গর্ভসংক্রান্ত জটিলতার যেকেনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই গর্ভবর্তীকে দ্রুত নিকটস্থ ইউনিয়ণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স/মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র/জেলা হাসপাতাল/মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/ বেসরকারী ক্লিনিকে নিতে হবে

গর্ভোত্তর সেবা (PNC)

সন্তান জন্মের পর মা ও শিশু উভয়ের শরীর দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে, তাই এ সময়ে উভয়েরই বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। সঠিক যত্ন নিলে প্রসূতি মা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং নবজাতক সুস্থ ও সবল থাকবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *